খেলাধুলা

হারই সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের

খেলাধুলার বার্তা : বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ভীষণ জরুরি ছিল বাংলাদেশের। সেই মিশনে হারই সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩৮২ রানের টার্গেটে রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েও ৪৮ রানে হেরেছে মাশরাফি মুর্তজার দল। বাংলাদেশ ৮ উইকেটে থেমেছে ৩৩৩ রানে।

১৭৫ রানে ৪ উইকেট পতনের পর ভালো কিছুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ জুটিতে। ১২৭ রানের জুটিতে ব্যবধান কমে এসেছিল অনেক। ৫০ বলে ৬৯ করা মাহমুদউল্লাহকে বিদায় দিয়েই সব কিছুর ইতি টেনে দেন কোল্টার নাইল। আগ্রাসী মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছয়। তার বিদায়ের পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরেছেন সুযোগ পাওয়া সাব্বির। মিরাজ কিছুক্ষণ থেকে ৬রান করে ফিরেছেন স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে। অপরপ্রান্তে মুশফিক শুধু হারের ব্যবধান কমাতে লড়াই করে গেছেন। ৯৫ বলে তুলে নেন বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। আর ক্যারিয়ারের সপ্তম। ‍মুশফিকের এই সেঞ্চুরিই হয়ে থাকলো ম্যাচের সান্ত্বনা। অপরাজিত থাকেন ১০২ রানে। তাতে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছয়। মাশরাফি ৬ রানে স্টোইনিসের শেষ বলে উড়িয়ে মেরে বিদায় নিলে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহে থামে বাংলাদেশ। তারা করে ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, নাথান কোল্টার নাইল ও মার্কাস স্টোইনিস। একটি নেন অ্যাডাম জাম্পা।

এই হারের পর ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বসলো অজিরা। বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রইলো পাঁচে। ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউজিল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ইংল্যান্ড।
অবশ্য বিশাল লক্ষ্যে ব্যাটিং নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে শুরু বাংলাদেশের। দুঃখজনক রান আউটে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান সৌম্য সরকার।বল হাতে সফল হলেও ব্যাট হাতে পারেননি তেমন কিছু করতে। কিন্তু তামিম ইকবালের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে মাত্র ১০ রান করে। মিডঅনে বল পাঠিয়ে সিঙ্গেলের জন্য দৌড়েছিলেন তামিম। নন-স্ট্রাইকে থাকা সৌম্যও এগিয়ে এসেছিলেন অনেকটা। কিন্তু অ্যারন ফিঞ্চের হাতে বল দেখে যে যার প্রান্তে ফিরে যাওয়ার চেষ্টাকরেন। কিন্তু ফিঞ্চের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে আঘাত হানার আগে নিজের জায়গায় যেতে ব্যর্থ হন সৌম্য। ফলাফল, দুঃখজনক রান আউটে ফিরতে হয় তাকে।

সৌম্য সরকারের রান আউটের পর পর প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান ভালো জুটিও গড়েন। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যানের সেই ধারায় ছেদ পড়লো অবশেষে। ৪১ রানে আউট হয়ে ফিরে গেলে চাপটা বেড়ে যায় বাংলাদেশের। মার্কাস স্টোইনিসের স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিডঅনে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৪১ বলের ইনিংসটি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে।

তবে সাকিব ফিরলেও ছন্দ ছিলেন তামিম ইকবাল। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন অজিদের বিপক্ষে। যদিও ফিফটি পূরণ করার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৬২ রানে মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিপক্ষে জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লিটন দাসের। তার হার না মানা ৯৪ রানের ইনিংসে বড় স্কোর তাড়া করে জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারলেন না তিনি। ২০ রান করে আউট হয়ে গেছেন লিটন। অ্যাডাম জাম্পার এলবিডাব্লিউয়ের শিকার ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন লিটন, তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

তার আগে টস জিতে রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেটে করে ৩৮১ রান। অস্ট্রেলিয়ার এই বিশাল সংগ্রহে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের। উদ্বোধনী জুটিতে ফিঞ্চের (৫৩) সঙ্গে ১২১ ও দ্বিতীয় উইকেটে খাজার (৮৯) সঙ্গে ১৯২ রানের জুটি গড়ার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত খেলেন ১৬৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।

বড় এই সংগ্রহ আরও বেড়ে যেত যদি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল থিতু হতেন আরও কিছুক্ষণ। ১০ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে রানের চাকা দ্রুত ঘুরিয়ে যান তিনি। রান আউট হয়ে ফিরলে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়। তবে শেষ দিকে কার্যকরী ব্যাটিং করে মাঠ ছেড়েছেন মার্কাস স্টোইনিস (১৭*) ও অ্যালেক্স ক্যারি (১১*)। শেষ দিকে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকার পর শেষ ওভারে দুজনে মিলে দ্রুত রান নিলে ৩৮১ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে বল হাতে সফল ছিলেন খণ্ডকালীন সৌম্য সরকার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারানো ৫ উইকেটের তিনটিই সৌম্যর শিকার। ৮ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে তিনি ফিরিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তিন সেরা ব্যাটসম্যান- ফিঞ্চ, ওয়ার্নার ও খাজাকে। মোস্তাফিজুর রহমান ৬৯ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close