আলোচিত

বিদেশে থেকেও অনলাইনে ভোটার হতে পারবেন প্রবাসীরা

বার্তাবাহক ডেস্ক : সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের ভোটার করার মধ্য দিয়ে সেপ্টেম্বেরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কাজ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্য চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়া শেষে সবাইকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন সিঙ্গাপুরের প্রবাসীরা। সেখানে ভোটার তালিকার বাইরে থাকা প্রায় ৫০ হাজার নাগরিক সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি আলাদা সার্ভার বসাবে কমিশন। যে সার্ভারটি ইসির ওয়েবসাইটে আলাদা লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে। প্রবাসী নাগরিক সংশ্লিষ্ট দেশে বসেই সেই লিংকে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় সকল কাগজ/দলিলাদি আপলোড করে এবং ফরম পূরণ করে আবেদন সম্পন্ন করবেন।

সেই আবেদনটি পরবর্তীতে আবেদনকারীর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তদন্তে ইতিবাচক প্রতিবেদন আসলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে ইসির টোকনিক্যাল টিম যাবে সিঙ্গাপুরে। সেখানে প্রবাসীদের আইরিশ, ফিঙ্গারসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

তবে কেউ নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও ভোটার আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রবাসীদের নিবন্ধন কেন্দ্রে নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান অবস্থায় আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজ/দলিলাদি সরবরাহ করতে হবে।

এদিকে সিঙ্গাপুরের অন অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ২১ দিন হওয়ায় কিছুটা জটিলতায় পরতে হবে। এক্ষেত্রে ২০ দিন পর পর টেকনিক্যাল টিম পরিবর্তন করতে হবে কমিশনকে। সেই অনুযায়ী ২০ দিন পর পর কমিশন থেকে টিম যাবে।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম-সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেসন্স) মো. আবদুল বাতেন.বলেন, ‘চেষ্টা করছি সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশের একসঙ্গে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ রাখা যায় কিনা, কারণ তাহলে ঐসব দেশের প্রবাসীদেরও তথ্য সংরক্ষণ ও তাদের যাচাই-বাছাই কাজগুলো সম্পন্ন করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এসব কাজের ক্ষেত্রে আমাদের দুইজন কাজ করলে তাদেরও দুইজন প্রতিনিধি থাকতে হবে, সে বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছি।’

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে যে সংখ্যক প্রবাসী রয়েছে, তাদের সংখ্যা খুব বেশি না। তবে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

গত ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ ইসি সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে কমিশনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শুরুতে এ কাজের জন্য বাসাভাড়া নিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে জনবল, যন্ত্রপাতিসহ একটি কারিগরি টিম পাঠানো হবে।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে পাইলট প্রকল্প সফল হলে এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

কমিশন মনে করছে, যেসব দেশে অবৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যা কম সেখানেও পরবর্তী ধাপের প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম তালিকায় রয়েছে। আগামী ২৮ জুলাই সম্ভাবতা যাচাই করতে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও ইসির যুগ্ম-সচিব আবুল কাসেম।

উল্লেখ্য, বর্তমানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। আর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক কোটি।

 

সূত্র: বার্তা টোয়েন্টিফোর

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close