আলোচিত

চুক্তি করেও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা?

বার্তাবাহক ডেস্ক : নতজানু রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া৷। রাষ্ট্র চাইলে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যাওয়ারও সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে ২০১১ সালে বিজিবি ও ভারতের বিএসএফের মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছিল। চুক্তিতে বলা হয়, সীমান্ত পারাপারে মানুষ হত্যায় অস্ত্র ব্যবহার করবে না এই দুটি দেশ। চুক্তি করেও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ”যেসব সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আনা-নেয়া হচ্ছে সেখানে তো সীমান্তরক্ষীর বাহিনীর গুলিতে কেউ মারা যাচ্ছে না। আবার মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনা-নেয়ার সময়ও গুলিতে কেউ মরছে না। ”

‘‘যেসব সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হচ্ছে সেখানেই মানুষ মারা যাচ্ছেন। এখন তো গরু চোরাচালান অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। তারপরও কেন সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামছে না?”-প্রশ্ন রাখেন আইনজীবী জ্যোতির্ময়।

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা তো এর আগে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের বলতে শুনেছি, গুলিতে যে মারা গেছে সে গরু চোরাকারবারি। অথচ আমরা আমাদের গ্রামে ঢুকে তাদের মারতে দেখেছি। এখন ওরা বড় দেশ। আমরা অনেক ছোট। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রীয় পলিসি তো শক্ত হতে হবে। নতজানু পলিসির কারণে আমরা এটা বন্ধ করতে পারছি না। আমরা তো প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। ফলে রাষ্ট্র আইসিসিতেও যাবে না।’

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকার বলেছেন, সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে। তার আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পিলখানায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলন উদ্বোধন করে তিন বলেছিলেন, ‘‘আমি আশা করবো এই বৈঠকের পর সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসবে। আমরা সীমান্তে আর কারো মৃত্যু দেখতে চাই না।”

তারও আগে, ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের সঙ্গে বৈঠক করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অনেক কমেছে বলে দাবি করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন তার এই বক্তব্য শুনে সীমান্তে হত্যা ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, তাহলে গ্যাপটা কোথায়? সেটা আসলে আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। একটা হতে পারে আমরা ছোট দেশ, আর ওরা বড় দেশ। এ কারণে ওরা আমাদের কথা গুরুত্বই দিচ্ছে না। এই কারণে আমি বলি, আলোচনাটা আরো বাড়াতে হবে। শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলতে হবে। তাহলে যদি সমস্যাটার সমাধান করা যায়। অন্য কোন পথ তো আমি দেখি না।”

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close