খেলাধুলা

নতুন বিশ্ব জয়ীকে বরণের অপেক্ষায় লর্ডস

খেলাধুলার বার্তা : বিশ্বকাপের ট্রফিতে এবার লেখা হবে নতুন দলের নাম। প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পাওয়ার প্রতীক্ষায় আজ রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।

নতুন বিশ্ব জয়ীকে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় ক্রিকেটের পুণ্যভূমি লর্ডস।

বিশ্ব ক্রিকেট সবশেষ নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখেছে ১৯৯৬ সালে, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ওইবার শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এরপর ঘুরেফিরে পুরোনোরা ফিরে পেয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব। গত দুই দশকে তো ৫ আসরের চারটিই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, একবার ভারত। এবার দুই দলকেই সেমিফাইনালে হটিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এবার তাদের ইতিহাস গড়ার পালা। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টিভি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও স্টার স্পোর্টস ১।

বিশ্ব আসরের প্রথম পাঁচ আসরে কতই না দাপট ছিল ইংল্যান্ডের। ১৯৭৯, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালে তিনবার ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্তু শিরোপা জেতা হয়নি একবারও। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। ২৭ বছর পর প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠেই দাপুটে জয়ে পা রেখেছে ফাইনালে। আর একটি জয়, তাহলেই ইতিহাস। নিউজিল্যান্ডের সামনেও ইতিহাস গড়ার হাতছানি। গত বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনালে উঠেও শিরোপায় হাত ছুঁতে না পারার আক্ষেপ কাটানোর সুযোগ এসেছে আবারও। টানা দ্বিতীয় ফাইনালে উঠে আরেকবার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে চায় না তারা।

দুই দলের লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকবে হয়তো ইংল্যান্ডই। আগের তিন ফাইনালে ব্যর্থতার স্মৃতি, দেশের সমর্থকদের প্রত্যাশা তাদের নির্ভার থাকতে দিচ্ছে না। অবশ্য গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপে বিদায় নেওয়ার পর থেকে এখন অনেক পরিণত দল ইংল্যান্ড। গত চার বছরের ধারাবাহিকতায় র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে তারা। এখন অপেক্ষা শেষটা রাঙানোর।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগান সবাইকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসতে চান। ইতিহাসের অংশ হতে মুখিয়ে তিনি, ‘ফাইনাল নিয়ে আমরা প্রত্যেকেই রোমাঞ্চিত। লর্ডসের এই ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জনের সুযোগ। শেষটা ভালো করে অনন্য অর্জনের সাক্ষী হতে আমরা মুখিয়ে আছি।’

এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি ব্যাটিং লাইন আপ। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুটি সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরই তাদের। জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুটরা আছেন দারুণ ফর্মে। তাই লড়াইটা হবে ইংলিশ ব্যাটিং লাইন আপের সঙ্গে কিউই বোলারদের। দারুণ ছন্দে আছেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারতকে কাঁপিয়ে দেওয়ার স্মৃতি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হবেন ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও জিমি নিশামের বোলিং আক্রমণ। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংই পারে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটসম্যানকে রুখে দিতে।

গতবারের মতো এবারও নিউজিল্যান্ডের সামনে বাধা স্বাগতিক প্রতিপক্ষ। চার বছর আগে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তাহলে কি এবারও হবে না? কেন উইলিয়ামসন কোনও চাপ নিতে চাচ্ছেন না, ‘আমরা ফেভারিট কিনা সেটা নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই। আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে চাই। মাঠে যারা ভালো খেলবে, তাদের সম্ভাবনা বেশি থাকবে। আমরা সেদিকেই ফোকাস রাখতে চাই।’

এবার শিরোপা জয়ে আত্মবিশ্বাসী কিউই অধিনায়ক, ‘আবারও আমাদের সামনে বিশ্বকাপ সেরা হওয়ার সুযোগ এসেছে। আগেরবার আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছিলাম, এবার ব্যর্থ হতে চাই না। দলের সবাই শিরোপা জিততে মুখিয়ে আছে। আমি মনে করি, আমরা সেরাটা দিতে পারলে এবারের শিরোপা আমাদেরই হবে।’

এই বিশ্বকাপেই একবার দেখা হয়ে গেছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের। ওই ম্যাচে কিউইদের ১১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথ পরিষ্কার করেছিল ইংলিশরা। চেস্টার লি স্ট্রিটে ওই হারের বদলা নিউজিল্যান্ড নিতে পারবে কিনা, কে জানে? তবে যে-ই জিতুক সোনালি ট্রফি হাতে দেখা যাবে নতুন কাউকেই।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close