আলোচিতজাতীয়

ওএসডি থাকছে কিনা সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহে

বার্তাবাহক ডেস্ক : অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি বা ওএসডি প্রশাসনে থাকবে কি-না সে সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে এক সপ্তাহেই- এমনটি জানিয়েছেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

২০১৩ সালে ওএসডির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন সাবেক সচিব এম আসাফউদ্দৌলাহ। রিটকারির আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়েছেন ব্যারিস্টার অনীক। তিনি বলছিলেন, রাষ্ট্রের অপচয় বন্ধে তাঁদের এ পদক্ষেপ।

একজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে ওএসডি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। আহমেদ কবীরকে ওএসডি করার পর প্রশ্ন উঠেছে এটা কি কোন শাস্তি? না-কি শাস্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘‘কর্মকর্তাদের অসদাচরণেওএসডি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। তবে এটি আইনগত কোনো শাস্তি নয়। তদন্তের পর অভিযুক্ত হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার না হওয়া একটি খারাপ দৃষ্টান্ত। এটি না হলে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। আবার কাউকে ওএসডি করে শুধু শুধু বসিয়ে বেতন দেওয়া হলে সেটা রাষ্ট্রের অপচয়। এটা করা যাবে না।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সোমবার পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৩৫০ জনের মতো কর্মকর্তা ওএসডি আছেন। এর মধ্যে ২০০ কর্মকর্তা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের ওএসডি করা হয়েছে। আর প্রায় দেড়শ কর্মকর্তা ওএসডি হয়ে দেশেই আছেন। নানা অভিযোগের কারণে কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, আর কিছু কর্মকর্তাকে এমনিতেই ওএসডি করে রাখা হয়েছে। তারা বেতন ভাতা, সুযোগ সুবিধা সবই পাচ্ছেন। এমনকি পদোন্নতিতেও কোন অসুবিধা নেই।

কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করে শুধু শুধু বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে? এটা রাষ্ট্রের অপচয় কি-না? জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘‘আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ওএসডি করা হতো। এখন সেটা আর নেই। দেড়শর মতো কর্মকর্তা যারা ওএসডি হয়ে আছেন, তাদের কারো বিরুদ্ধে হয়ত অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে? আর কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয় রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই। হঠাৎ কোন সংকট হলে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। যেমন ধরেন রোহিঙ্গা ইস্যু। এখানে হঠাৎ করেই কিছু কর্মকর্তার প্রয়োজন হয়ে পড়ল, তখন সেখানে তাদের পাঠানো হয়। ওএসডি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে প্রশাসনের দুই হাজার ৭৪৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পায় মন্ত্রণালয়। এরপর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এর আগেসহ এ নিয়ে সর্বমোট ৪৪০টি বিভাগীয় মামলার মধ্যে গত ১০ বছরে ৬৭ জন কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড, ১২৬ জন কর্মকর্তাকে লঘুদণ্ড, ২০৩ জন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৪টি বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

২০১৩ সালে ওএসডির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন সাবেক সচিব এম আসাফউদ্দৌলাহ। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, আদালতের নির্দেশে তখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদালতে ৯ বছরের একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেখানে দেখা যায়, এই সময়ে ৩ হাজার ৬০৫ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে৷ তাদের পেছনে রাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৭ টাকা। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন ৪৫ এবং সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে ওএসডি করে রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। তাই ওএসডির বিষয়ে আদালতের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।

সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে ওএসডি রাখার যে বিধান রয়েছে, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘‘১৯৯১ সালের যে জনবল ছিল, এখন তো অনেক বেড়েছে। তবে ওই ধরনের প্রজ্ঞাপন থাকলে সেটা সংশোধন করা হবে। এটা বলতে পারি, আগের চেয়ে ওএসডি এখন অনেক কমে গেছে। সবাইকে কাজে লাগানো হচ্ছে।”

 

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close