আলোচিত

গাজীপুরের সড়কে ‘যমদূত’ অনাবিল পরিবহন

বার্তাবাহক ডেস্ক : একের পর এক প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় গাজীপুর সড়কে যেন যমদূতে পরিণত হয়েছে অনাবিল পরিবহনের বাস। গত কয়েক বছরে এ পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট অনাবিলের বাসের চাপায় গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়ায় প্রাণ হারিয়েছেন রুয়া গার্মেন্টের শ্রমিক খাইরুল ইসলাম (২৩)। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর এবং একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তার ইটাহাটায় অনাবিলের বাস এ জেড ফ্যাশনের শ্রমিক সোহেল রানাকে (৩২) চাপা দিয়ে হত্যা করে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে গাজীপুরে অনাবিল ও অনাবিল সুপার পরিবহন নামের দুটি কোম্পানির ২০০ বাস-মিনিবাস চলাচল করে। এর মধ্যে রুট পারমিট রয়েছে ২০-২৫টির। রুট পারমিটে অনাবিল সুপারের গাজীপুরের এরশাদনগর পর্যন্ত চলার অনুমোদন রয়েছে। আর অনাবিলের রুট পারমিট রাজধানীর উত্তরার ধওর পর্যন্ত। কিন্তু দুটি পরিবহনই ১০-১২ বছর ধরে অবৈধভাবে গাজীপুরের কোনাবাড়ী পর্যন্ত চলাচল করছে। এক বছর ধরে চলছে নগরীর তেলিপাড়ার বিআরটিসি ট্রেনিং সেন্টার পর্যন্ত। ফিটনেস সনদ বাগিয়ে বেপরোয়াভাবে সড়কে চলছে অনাবিলের লক্কড়-ঝক্কড় বাস। বেশির ভাগ চালকেরই লাইসেন্স নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট মোটরসাইকেলে করে টঙ্গী থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন গার্মেন্ট কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম তালুকদার (২৮)। টঙ্গীর সেনাকল্যাণ ভবনের কাছে পৌঁছলে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে শফিকুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই বছরের ৯ নভেম্বর অনাবিলের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে টঙ্গীর কলেজগেটে প্রাণ হারান নারায়ণগঞ্জের মোন্তাজ উদ্দিনের স্ত্রী মিরজান বিবি (৬০)। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ১৭ জুলাই অনাবিল বাসের চাপায় মৃত্যু হয় সায়েদাবাদ-টঙ্গী রুটের গ্রেট তুরাগ পরিবহনের হেলপার ইমামুল হকের (২৮)।

২০১৬ সালের ৩০ মে টঙ্গী থেকে মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন নূরুন্নাহার মায়শা (২৫)। টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় অনাবিলের একটি বাস। এতে ছিটকে পড়ে বাসের চাকায় প্রাণ হারান মায়শা। একই বছরের ১১ জুন অনাবিলের বাস ইটাহাটা এলাকায় মোটরসাইকেলচালক দিগন্ত সোয়েটারের নিরাপত্তাকর্মী ফজলুল হক ও তাঁর দুই সহযাত্রীকে চাপা দেয়। এতে ফজলুল নিহত এবং গুরুতর আহত হন বাকি দুজন।

গত বছরের ৩১ জানুয়ারি টঙ্গীর মিলগেইট এলাকায় অনাবিলের বাসচাপায় আকিজ গ্রুপের বিক্রয়কর্মী মফিজ উদ্দিন (৩৫) নিহত হন। এর চার দিন পর একই স্থানে অনাবিল সুফিয়া বেগমকে (৭০) চাপা দেয়। টঙ্গীর তারগাছ এলাকায় ১ সেপ্টেম্বর অনাবিল বাসের চাপায় মৃত্যু হয় স্বপন (২৫) নামের এক যুবকের।

গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অনাবিলের কয়েকটি বাস ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) থোয়াই অং প্রু মারমা জানান, অনাবিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাদের বাস বড়; তাই যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় ইচ্ছা করে যানজট সৃষ্টি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বেপরোয়া চালানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। অনাবিলের সিলিং, রুট পারমিট, স্টপেজের তথ্য চেয়ে বিআরটিএকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বড় আকারের অভিযান চালানো হবে।

 

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close