আলোচিত

সুশীল সমাজের পরিচিত কয়েকজনের সন্দেহজনক তৎপরতা

বার্তাবাহক ডেস্ক : দেশে যখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অস্বস্থি, পরিবহন শ্রমিকদের চোখ রাঙানি, পেঁয়াজের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, হঠাৎ হঠাৎ করে রেল দুর্ঘটনা, লবণের বাজারে গুজব সন্ত্রাস ইত্যাদি ঘটনা চলছে সেই সময় দেশে সুশীল সমাজ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের তৎপরতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সমস্ত সুশীলরা গত কিছুদিন ধরে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাসে সুশীলদের যোগাযোগ বেড়েছে এবং দূতাবাস গুলোর সঙ্গে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা রকম আলোচনা, উষ্মা, উৎকন্ঠা এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করার খবর পাওয়া গেছে।

এক অনুসন্ধানে জানা যায়, ৮ সুশীল সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ড. কামাল হোসেন, ড. মোহাম্মদ ইউনুস, ড. দেবপ্রিয় ভট্টচার্য, ড. শাহদীন মালিক, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং সুলতানা কামাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে. ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ড. কামাল হোসেনের বাড়িতে। আর একটি দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার ল’চেম্বারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন।

ড. মোহাম্মদ ইউনুস গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে দেশে আসেন। এরপর শ্রম আদালকে হাজির হয়ে মুচলেকা দিয়ে জামিন পান। এরপরই তাকে দেশে তৎপর দেখা যাচ্ছে। এই সময় তিনি বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের দীর্ঘ এক ঘন্টার বৈঠকের তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংস্থাটির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যর সব সময়ই সরকার বিরোধী এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে তীর্যক চোখে দেখার অভ্যাস রয়েছে। সাম্পতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সূচককে তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার সঙ্গেও একাধিক দূতাবাসের বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ড. মোহাম্মদ ইউনুসসহ একাধিক সুশীলের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন বলেও তথ্য বাংলা ইনসাইডারের হাতে এসেছে।

আইনজীবি ড. শাহদীন মালিক অজানা কারণে কট্টর সরকার বিরোধী। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এর পাশাপাশি ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকের সঙ্গে তার বৈঠকের খবরও জানা গেছে।

হোসেন জিল্লুর রহমান সম্প্রতি ফজলে হাসান আবেদ অবসের যাওয়ার পর ব্রাকের চেয়ারপারসন হয়েছেন। এরপর থেকে তাকে তৎপর দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কুটনৈতিক পাড়ায় তার নিয়মিত যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য কারো অজানা নয়। আর এসমস্ত প্রক্রিয়াগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সুলতানা কামাল। তিনিও এখন সরকারের বিরুদ্ধে সরব।

সুশীলদের এই সব তৎপরতা কি নিছক রুটিন কাজ নাকি অন্য কোনো ষড়যন্ত্র আছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই আমরা মনে করি। কারণ বাংলাদেশে যতবারই অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো এসেছে তার আগে সুশীলকে তৎপর দেখা গেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দূতাবাসে সুশীলদের যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য চেষ্টা চলছে। গুজব সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার যে ষড়যন্ত্র তার সঙ্গে সুশীলদের সাম্প্রতিক তৎপরতার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ বাংলাদেশে যখনই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয় তখন সবচেয়ে উল্লসিত হয় সুশীল সমাজ। যদিও তারা সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলে। আর এই সুশীল সমাজের পৃষ্ঠপোষকতাতেই বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় অগণতান্ত্রিক শাসন জেকে বসেছিল। তার সর্বশেষ উদাহরণ হলো ওয়ান ইলেভেন।

 

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close