আলোচিত

এবার বিজিবি কর্মকর্তাদের নিয়ে গুজব

বার্তাবাহক ডেস্ক : ‘‘আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি স্বপদে দায়িত্ব পালন করছি,’’ কথাগুলো বলে সত্য প্রকাশ করলেন বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ।

রাজশাহী সীমান্তে গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবির কমান্ডিং অফিসারসহ কয়েকজনের কোর্ট মার্শালের খবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটি ভারতের কয়েকটি মিডিয়াতেও প্রচার করা হয়েছে। ওই সব মিডিয়ার বরাত দিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

এই খবরের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে বিজিবি ১ নম্বর ব্যাটেলিয়ন (রাজশাহী অঞ্চল)-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল ফেরদৌস বলেন, ‘‘ভারতের যে মিডিয়াগুলোতে খবর এসেছে, সেগুলো ফ্রন্টলাইনের কোনো মিডিয়া না। কেন এভাবে খবরটি ছড়ানো হচ্ছে তা-ও বুঝতে পারছি না।’’ বিষয়টি কিভাবে সুরাহা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা তদন্ত করে রিপোর্টটি তাদের পাঠিয়েছি৷ সেখানেই বিষয়টির সুরাহা হয়ে গেছে৷ তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের পর্যায়ে আছে। গত কয়েকদিনে আমরা ফুটবল, ভলিবলও খেলেছি। এরমধ্যে একাধিকবার মিটিংও হয়েছে। এখন কোনো সমস্যা নেই।’’

এমন একটি ভিত্তিহীন খবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারের তরফ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘‘প্রথমত এই বিষয়টি কেউই আমাদের নজরে আনেনি। নিয়মটা হলো, তথ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের গোয়েন্দারা এমন কোনো প্রোপাগান্ডা পেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে অবহিত করে। বিটিআরসি ফেসবুক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটি বন্ধ করে দেয়।’’ এই ধরনের খবর যারা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কি কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? মন্ত্রী বলেন, ‘‘অবশ্যই অনেক উদাহরণ আছে। বিটিআরসির মনিটরিং করার সক্ষমতা নেই। কিন্তু যারা মনিটরিং করে, তারা জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা মানুষের সচেতনতার অভাব। এ কারণে গুজবগুলো ছড়ায়।’’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ফেসবুকের কোনো অফিস নেই। তারপরও বাংলাদেশ যেহেতু তাদের একটা বড় বাজার, সেই কারণে আমাদের কথা মাঝেমধ্যে তারা শোনে। না শুনলেও কিছু করার নেই। তবে আশার কথা, বর্তমানে আমাদের সুপারিশের ৮০ ভাগই তারা পালন করে। ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)-তে ভুয়া খবরগুলো মনিটরিং করা হয়। তারাই এসব খবর আমাদের জানায়। তখন আমরা ফেসবুককে বললে ওই লিঙ্কগুলো বন্ধ করে দেয়। এমন বহু লিঙ্ক বন্ধ করা হয়েছে।’’

বাংলাদেশের কোনো মিডিয়ায় ভারত সরকার বা তাদের কোনো কর্মকর্তাকে নিয়ে মিথ্যা খবর প্রচার করা হলে বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাইকমিশন থেকে সেই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। কখনো কখনো বিবৃতি দিয়ে তারা বিষয়টি মিডিয়াকে অবহিত করে। সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ডেকেও কথা বলে হাইকমিশন। দিল্লিতে থাকা বাংলাদেশের হাইকমিশন বা কলকাতার উপ-হাইকমিশন কি এ ধরনের খবর মনিটরিং করে?

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘‘অবশ্যই আমাদের হাইকমিশন থেকে এগুলো মনিটরিং করা হয়। ভুয়া খবরের প্রতিবাদও জানানো হয়। এটা শুধু ভারতে না, সারাবিশ্বেই এটা করা হয়।’’

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর ভারতের সীমান্তরেখা অতিক্রম করে কয়েকজন জেলে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে। তারা রাজশাহীর চারঘাটের ভিতরে পদ্মানদীতে প্রবেশ করে ইলিশ মাছ ধরছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছিল। মা ইলিশ শিকারের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত চার জেলেকে আটক করে। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা এসে তিন জেলেকে ছিনিয়ে নেয়। অপর জেলে প্রণব মণ্ডলকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফ সদস্যরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় বিজিবি পাল্টা গুলি চালালে বিএসএফ সদস্য বিজয় ভান সিং নিহতএবং আরেক বিএসএফ সদস্য রাজবীর সিং আহত হন। বিজিবির হাতে আটক হওয়া সেই জেলে প্রণব মন্ডল বর্তমানে রাজশাহীর কারাগারে বন্দি আছেন।

 

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close